সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

AnttlersM81M82.jpg

নক্ষত্রমন্ডল নক্ষত্রমন্ডল সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

একটি নক্ষত্রমণ্ডলের পরিবারের নামকরণ মূলত ঐ পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্রমন্ডলের নামানুসারে করা হয়। ‘হারকিউলিস’ নামক উল্লেখযোগ্য নক্ষত্রমন্ডল পরিবারে ১৯টি নক্ষত্রমন্ডল রয়েছে।

মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশের নক্ষত্রসমূহকে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করলে বিভিন্ন পার্থিব বস্তু, পৌরাণিক চরিত্র বা জীবজন্তুর আকার ধারন করে। ঐ নির্দিষ্ট নক্ষত্রসমূহকে একত্রে নক্ষত্রমণ্ডল (Constellation) বলে। 

প্রাচীনকালের মানুষ রাতের আকাশের তারাগুলো যুক্ত করে তা বিভিন্ন পার্থিব জিনিসের রূপে কল্পনা করত। এই নক্ষত্রমন্ডল সম্পর্কে রয়েছে অনেক অজানা তথ্য। আসুন জেনে নেয়া যাক নক্ষত্রমন্ডল সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য।

আদিম সভ্যতায় নক্ষত্রমণ্ডলঃ 

প্রাচীনকালের মানুষের ধর্মীয় শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে রাতের আকাশের নক্ষত্রমণ্ডল বিশেষ ভূমিকা পালন করতো। তারা নক্ষত্রমন্ডলকে মহাজাগতিক শক্তি ভাবতো। তারা নক্ষত্রমন্ডলের সাহায্যে পরবর্তী ঋতুতে চাষাবাদ সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারত। এছাড়া সময় গণনায় ও দিকনির্দেশনায় তারা নক্ষত্রমন্ডলের সাহায্য নিত।

অফিসিয়াল নক্ষত্রমন্ডলের সংখ্যাঃ ১৯২২ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (IAU) ৮৮ টি নক্ষত্রমণ্ডলকে অফিসিয়াল নক্ষত্রমণ্ডল হিসেবে চিহ্নিত করে যার মধ্যে ১৫শ শতাব্দীতে টলেমি কর্তৃক লিখিত ‘Almagest’ গ্রন্থে ৪৮টি নক্ষত্রমণ্ডল লিপিবদ্ধ ছিল। 

কিন্তু টলেমির চার্টে কিছু শূন্যস্থান ছিল; বিশেষ করে দক্ষিন মহাজাগতিক মেরুর নক্ষত্রমণ্ডলগুলো তখনো লিপিবদ্ধ করা ছিল না। ১৬শ শতাব্দীতে গেরারডুস মারকেটর, পিটার কেসার এবং ফ্রেডরিখ দ্য হান্টম্যান কিছু শূন্যস্থান পূরন করেন। পরবর্তীতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস হ্যাভিলিয়াস এবং ফ্রেঞ্চ জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস লুইস চার্টটি পরিপূর্ণ করেন।

নক্ষত্রমন্ডলের ধারনাটি বহু প্রাচীনকালেরঃ 

গ্রিক সভ্যতায় সর্বপ্রথম নক্ষত্রমন্ডলের ধারনা আসে ৮ম শতাব্দীতে। কিন্তু গ্রিক সম্প্রদায় নক্ষত্রমন্ডল সম্পর্কে বেশিরভাগ ধারনা পেয়েছিল আদিম ইজিপ্ট সভ্যতা থেকে। ইজিপ্ট সম্প্রদায় ধারনা পেয়েছিল তাদের পূর্ববর্তী ব্যাবিলোন ও সুমেরীয় সভ্যতা থেকে। এছাড়া কিছু ব্রোঞ্জযুগীয়, মেসোপটেমিয়ান ও ব্যাবিলোনিয়ান নক্ষত্রমণ্ডল আছে।

‘ওরিয়ন’ নামক নক্ষত্রমণ্ডলের আবিষ্কার ছিল সবচেয়ে বিস্ময়কর যা ১৯৭২ সালে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল; এক গজদন্তের ভেতর ওরিয়নের ৩২০০০ বছরের পুরানো চিত্র পাওয়া গিয়েছিল।

বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নক্ষত্রমন্ডলঃ 

পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারনে বছরের  বিভিন্ন  সময়ে  আমরা  আকাশের  বিভিন্ন  অংশ দেখি; তাই  রাতের  আকাশে  বছরের  বিভিন্ন  সময়  বিভিন্ন  নক্ষত্রমন্ডল  দৃষ্টিগোচর  হয়।  কিছু কিছু নক্ষত্রমন্ডল বছরে শুধুমাত্র একবার দেখা যায়।

নক্ষত্রমণ্ডল সূর্যের মতো পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘোরেঃ 

প্রত্যেকদিন শেষ বিকেলে তারকা এবং নক্ষত্রমণ্ডল পূর্বের আকাশে উদয় হয় এবং রাত শেষে ভোরের দিকে পশ্চিম আকাশে চলে যায়; এভাবে তারা ধীরে ধীরে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায়। এভাবে নক্ষত্রমণ্ডল সূর্যের চারদিকে ৩৬০ ডিগ্রী কোনে চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে।

রাশি সম্পর্কিত নক্ষত্রমণ্ডলঃ 

রাশি সম্পর্কিত ১৩টি নক্ষত্রমণ্ডল রয়েছে। চাঁদ, সূর্য এবং গ্রহগুলো যে পথে আবর্তিত হয় রাশি সম্পর্কিত নক্ষত্রগুলো সেখানেই থাকে। পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে সূর্য যে পথে পরিভ্রমন করে সেই গ্রহনরেখায় এ ধরনের নক্ষত্রমণ্ডল দৃষ্টিগোচর হয়।

নক্ষত্রমণ্ডলের পরিবারঃ  

কিছু কিছু নক্ষত্রমণ্ডলের পরিবার রয়েছে। রাতের আকাশে যখন অনেকগুলো নক্ষত্রমণ্ডল একই অঞ্চলে অবস্থান করে তখন তাদের একত্রে নক্ষত্রমণ্ডলের পরিবার বলে। 

একটি নক্ষত্রমণ্ডলের পরিবারের নামকরণ মূলত ঐ পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্রমন্ডলের নামানুসারে করা হয়। ‘হারকিউলিস’ নামক উল্লেখযোগ্য নক্ষত্রমন্ডল পরিবারে ১৯টি নক্ষত্রমন্ডল রয়েছে। এছাড়া পারসিউস পরিবারে ৯টি এবং ওরিয়ন পরিবারে ৫টি নক্ষত্রমন্ডল রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য নক্ষত্রমণ্ডলঃ 

সেনটাউরাস’ নামক নক্ষত্রমন্ডলে সবচেয়ে বেশী (১০১টি) পরিমানে দৃশ্যমান তারা আছে। সবচেয়ে বড় নক্ষত্রমন্ডলের নাম ‘হাইড্রা’ যা মহাকাশের ৩% স্থান দখল করে রাখে। ‘ক্যানিস মেজর’ নামক নক্ষত্রমন্ডলে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা রয়েছে।

এস্টারিসম কোনো নক্ষত্রমণ্ডল নয়ঃ 

এস্টারিসম অনেকগুলো তারকার সমষ্টি এবং নক্ষত্রমণ্ডলের মত এদের এদের নির্দিষ্ট নাম থাকে কিন্তু এদেরকে নক্ষত্রমন্ডল বা কনস্টিলেশন বলা যায় না; কেননা এদের আকার নক্ষত্রমন্ডল থেকে অনেক ছোট। ‘দ্য বিগ ডিপার’ নামক বিখ্যাত এস্টারিসমে ৭টি সুসজ্জ্বিত তারকা রয়েছে; কিন্তু মূলত এটি ‘আরসা মেজর’ নামক নক্ষত্রমন্ডলের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।  


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

নক্ষত্র, আন্তর্জাতিক-জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংস্থা, ইজিপ্ট, দৃষ্টিগোচর