সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Warwickshire-Hampshire-1922.jpg

হ্যাম্পশায়ার বনাম ওয়ারউইকশায়ার রূপকথার এক ম্যাচ

পিচ বোলারদের জন্য রেডি হয়েই ছিল, তাতে রীতিমত বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন ওয়ারউইকশায়ারের টেস্ট বোলার হেনরি হাওয়েল। মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে হ্যাম্পশায়ারকে অলআউট করলেন মাত্র ১৫ রানে। জ্বি ঠিকই পড়েছেন। ১১৫ না। শুধু ১৫!

১৯২২ সালের বার্মিংহাম। হ্যাম্পশায়ার বনাম ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা চলছিল তখন। ম্যাচটির পরের দিন দৈনিক লন্ডন টেলিগ্রাফ পত্রিকায় যে ম্যাচ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল তার ক্যাপশন ছিল এই রকম - Phil Mead: Top scorer in Hampshire's first innings - with 6 not out!

পুরো ব্যাপারটা জানা যাক। টসে জিতে হ্যাম্পশায়ার অধিনায়ক লায়নেল টেনিসন বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ওয়ারউইকশায়ারকে ২২৩ রানে বেঁধে ফেলে মাত্র তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন তার আগেই শেষ হ্যাম্পশায়ারের ইনিংস। পিচ বোলারদের জন্য রেডি হয়েই ছিল, তাতে রীতিমত বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন ওয়ারউইকশায়ারের টেস্ট বোলার হেনরি হাওয়েল। মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে হ্যাম্পশায়ারকে অলআউট করলেন মাত্র ১৫ রানে। জ্বি ঠিকই পড়েছেন। ১১৫ না। শুধু ১৫! ১৫ রানের মধ্যে সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৬, ফিল মিডের।

১৫ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅন করতে নামতে হল হ্যাম্পশায়ারকে। প্রথম ইনিংসে ঐরকম দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার পরে তারা ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারবে কিনা সেটি নিয়েই ছিল যত প্রশ্ন।

কিন্তু এর পরে যা হল তার সঙ্গে একমাত্র রূপকথার গল্পেরই তুলনা চলে। ওয়ারউইকশায়ারকে যখন দ্বিতীয় ইনিংস এ ব্যাট করতে নামতে হল তখন তাদের সব খেলোয়াড়ের তখন বজ্রাহতের মতো অবস্থা। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাম্পশায়ার করেছে ৫২১, ওয়ারউইকশায়ারের তখন জয়ের জন্য দরকার মাত্র ৩১৪ রান। এই দলটাই কি প্রথম ইনিংসে ১৫ রান এ অলআউট হয়েছিল?

দ্বিতীয় ইনিংসে সকল ব্যাটসম্যানই কিছু না কিছু রান করেছিলেন। তবে আসল কাজটা করেছিলেন জর্জ ব্রাউন আর উইকেটকিপার ওয়াল্টার লিভসে। ব্রাউনের ১৭২ আর উইকেটকিপার ওয়াল্টার লিভসে করেন হার না মানা ১১০। এই দুজনের ১৭৭ রানের পার্টনারশিপ হয়েছিল নবম উইকেটে, অর্থাৎ ওয়াল্টার লিভসে'র ওই ব্যাটিং বীরত্ব ছিল ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে। শেষ উইকেটে বয়েস-এর সাথে যোগ করেছিলেন আরও ৭০ রান, বয়েস করেছিলেন ২৯। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বয়েস আউট হয়ে গেলেও ওয়াল্টার লিভসে থেকে যান অপরাজিতই।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁদের এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সে ওয়ারউইকশায়ারের খেলোয়াড়রা যে ‘অন্ধ’ হয়ে গিয়েছিলেন তা সেই ম্যাচের প্রায় ৯৩ বছর পরেও অনুমান করা যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়ারউইকশায়ার অলআউট হয় মাত্র ১৫৮ রানে। হ্যাম্পশায়ার ম্যাচ জেতে ১৫৫ রানে। হ্যাঁ, যে দলের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৬, সেই হ্যাম্পশায়ার।

ক্রিকেট ইজ আ গেম অফ গ্লোরিয়াস আনসার্টেনটি, দে সেইড। ভেরি ওয়েল সেইড।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Warwickshire, Hampshire, 1922, cricket, game, challenge, epic, victory